😢
নাম মোক্তার হোসেন।
পিতাঃ হানিফ
মাতাঃসুফিয়া বেগম।
উলাইল সাভার ঢাকা।
মোক্তার হোসেনের ভাষ্যমতে তিনি একজন স্বর্ণকার ছিলেন। তার কোনো ছেলে মেয়ে নাই। রাজশাহীতে বিয়ে করেছিলেন মোক্তার হোসেন।
বয়সের সাথে সাথে তার শারীরিক অবস্থা অনেকটাই খারাপ হয়ে গেছে।
জানিনা তার পারিবারিক কোনো শত্রুতা আছে কিনা তার ভাই ভাতিজাদের সাথে।
মোক্তার হোসেনের ভাষ্যমতে তার কোনো ছেলে মেয়ে না থাকার কারণে তাকে অসুস্থ অবস্থায় বাড়ি থেকে বের করে দেয় তার ভাই ভাতিজারা।
মোক্তার হোসেন একজন শ্বাসকষ্টের রোগী। এই অবস্থায় তাকে ও তার স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে তার ভাই ভাতিজারা।
বিপদে যে কাছের মানুষ ও পাশে থাকেনা সেটা মোক্তার হোসেনের কথা শুনে অনেকটাই ক্লিয়ার হয়ে গেলাম।
তাকে বের করে দেয়ার সাথে সাথেই তাই স্ত্রী ও তাকে ছেড়ে বাবার বাড়ি চলে যায়।
এখন সেই মোক্তার হোসেন তার শ্বাসকষ্ট থেকে বাঁচার জন্য একটা ইনহিলার কেনার জন্য ভিক্ষা করে দিন পার করছে।
তাকে দেখে আমি আর আমার ভাগ্নে অনেকটা হতবাক হয়ে গেলাম। মানুষ কিভাবে পারে এই অবস্থায় একটা লোককে বাড়ি থেকে বের করে দিতে।
কিছুদিন পর মারা গেলে সেই সম্পত্তি তো তাদের ই হবে।
আমার মাথা ঘুরে গেলো মোক্তার হোসেন এর কথা শুনে।
আমি বল্লাম, আপনি এলাকার নেতাদের কাছে যান।
তখন মোক্তার হোসেন বললো ওরা তো কুত্তা, টাকা যেদিকে বেশী পায় সেদিকে লাফায় আমার তো টাকা নাই।
একবার এলাকার নাম করা নেতাকে বলেছিলো কিন্তু টাকা খেয়ে সে নেতা তাদের পক্ষ নিয়েছে।
এখন তারা মোক্তার হোসেন কে নানা অপবাদ দিয়ে যাচ্ছে যা বলার মত না।
মোক্তার হোসেন বলছে আর কাঁদছে।
আমি সহ্য করতে না পেরে বললাম চাচা কিছু খেয়েছেন?
সে বললো হ্যা সকাল বেলা বেকারী থেকে ভাংগা বিস্কুট দিয়েছিলো সেগুলী খেয়েছে।
আমি আর ভাগ্নে দেরী না করে তাড়াতাড়ি বেকারীতে গিয়ে ভালো মানের কিছু কেক ও পানি নিয়ে দিলাম মোক্তার হোসেন কে।
তার সেই খুশি ছিলো দেখার মত। একটা মানুষকে অল্পতেই যে এত খুশি রাখা যায় আমি জানতাম না।
সব শেষে মোক্তার হোসেন কথা বলতে বলতেই শুয়ে পড়লো তার শ্বাসকষ্ট বাড়ছে সেই জন্য।
তখন আমি আর ভাগ্নে মিলে অফিসের কিছু লোকের কাছ থেকে টাকা তুলে মোক্তার হোসেন নামের সেই ভদ্রলোককে দিলাম ইনহিলার কেনার জন্য।
সেই লোক অনেক দোয়া করে দিলো আমাদের এবং অনেক অনেক প্রশংসা করলো।
বিশ্বাস করবেন কিনা জানিনা, সেই শান্তিটা ছিলো মনের এতটাই শান্তি পেয়েছিলাম যা বলে বোঝাতে পারবো না।